বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিস

Author Admin

হঠাৎ মধ্যরাতে আপনার ঘুম ভেঙে গেল। আপনার বুকের ওপর ভারী কিছু বসে আছে বলে অনুভব করলেন। এত ভারী কিছু যে ঠিকঠাক নিশ্বাসই নিতে পারছেন না। যখন টের পেলেন, আপনি চাইলেও শরীরের কোনো অংশ নাড়াতে পারছেন না, এমনকি চিৎকারও করতে পারছেন না। এটি সাধারণত একজন ব্যক্তির ঘুমিয়ে পড়া বা জেগে ওঠার আগমুহূর্তে ঘটে। সহজ কথায় নিজেকে এমন অসহায়ভাবে আবিষ্কার করাকেই স্লিপ প্যারালাইসিস বা বোবায় ধরা বলে। 

কী হয় যখন বোবায় ধরে?

পেনিসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ব্রায়ান শার্পের মতে, বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিসের ক্ষেত্রে তিন ধরনের দৃষ্টিভ্রম বা হ্যাল্যুসিনেশন তৈরি হতে পারে। প্রথমটি ইনট্রুডো বা ঘরের ভেতর কোনো অতিপ্রাকৃত কিছুর উপস্থিতি টের পাওয়া। দ্বিতীয়টি ইনকিউবিস। আপনার মনে হতে পারে যে, কোনো দৃশ্যমান বা ঈষৎ-অদৃশ্য সত্তা আপনার বুকের ওপর চেপে বসে আছে। বুকের ওপর চেপে বসার ধারণাকে আশ্রয় করে হেনরি ফুসেলের আঁকা ‘দ্য নাইটমেয়ার’ শিরোনামের পেইন্টিং। সর্বশেষ, লেভিটেশন। আপনার মনে হতে পারে, আপনাকে কেউ শোয়া অবস্থাতেই শূন্যে তুলে ফেলেছে এবং...

Read More

প্যানিক অ্যাটাক

Author Admin

প্যানিক অ্যাটাক হলো এমন একটি রোগ যার কারণে একজন মানুষ হঠাৎ অতিরিক্ত উদ্বেগ এবং ভয় অনুভব করে। এসময় তার হৃদপিণ্ড থমকে যায় বলে মনে হয় এবং নিঃশ্বাস নিতে পারেনা। এমনটা মনে হয় যেন সে পাগল হয়ে যাচ্ছে অথবা মারা যাচ্ছে। প্যানিক এটাকের যথাযথ চিকিৎসা করা না হলে এটি প্যানিক ডিসর্ডারের দিকে ধাবিত হয় এবং অন্যান্য জটিলতাও সৃষ্টি করতে পারে। এর কারণে এমনকি একজনের দেহের সাধারণ কার্যাবলিও থমকে যেতে পারে। কিন্তু যদি দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া হয় তাহলে প্যানিক অ্যাটাক সমস্যাটি দূর হয়ে যেতে পারে অথবা এর প্রকোপ কমানো যেতে পারে এবং পরবর্তীতে একজন সাধারণ জীবনযাপনও করতে পারেন।

প্যানিক অ্যাটাক কী
প্যানিক অ্যাটাক হলো অপ্রত্যাশিত ভয় যা একজন মানুষকে ভয়ের অতিশায্যে নিয়ে যায়। কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই এটি একজন মানুষকে আক্রমণ করে। এমনকি একজন বিশ্রামরত অথবা ঘুমন্ত মানুষকেও এটি আক্রমণ করতে পারে।
প্যানিক অ্যাটাক কারো জীবনে কখনো হয়তো এক-দুইবার ঘটে থাকে। কিন্তু এমন কিছু মানুষ আছে যাদের কিছু দিন পরপরই প্যানিক অ্যাটাক হয়। পুনঃপুন প্যানিক অ্যাটাক সাধারনত কিছু নির্দিষ্ট কার...

Read More

ওথেলো সিনড্রোম

Author Admin

কী এই ওথেলো সিনড্রোম?
উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের অন্যতম ট্র্যাজেডি ‘ওথেলো’ এর মূল চরিত্র ওথেলোর নামানুসারে এ রোগের নামকরণ করা হয়েছে। শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত এ ট্র্যাজেডিতে ওথেলো তার সৎ এবং সুন্দরী স্ত্রী ডেসডেমনার পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার সন্দেহে তাকে হত্যা করে। পরে জানা যায়, তার সন্দেহ অমূলক ছিল। অযৌক্তিক সন্দেহপরায়ণতার এই মানসিক ব্যাধিকে এজন্যই দেওয়া হয়েছে ওথেলোর নাম। ব্রিটিশ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ জন টড ১৯৫০ সালে ওথেলো সিনড্রোমের বিষয়টি প্রথম উত্থাপন করেন।
ওথেলো সিনড্রোম তথা প্যাথলজিকাল জেলাসি বলতে কোনোরকম যুক্তি ছাড়াই সঙ্গীর প্রতি মাত্রাতিরিক্ত সন্দেহপরায়ণতা এবং অবিশ্বাস এবং তা থেকে সৃষ্ট নানাবিধ সমস্যাকে বোঝায়। এতে সন্দেহের বশবর্তী হয়ে মানুষ অনলাইনে উত্যক্ত করা, আড়িপাতা থেকে শুরু করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, এমনকি খুন পর্যন্ত করে ফেলতে পারে। কিন্তু অধিকাংশ সময়েই দেখা যায় যে, ব্যক্তিটির সন্দেহ ভিত্তিহীন ছিল। এ মানসিক ব্যাধিতে মানুষ তার যৌক্তিকভাবে চিন্তা করার শক্তি হারিয়ে ফেলে, ঈর্ষা ও সন্দেহের দহনে সে অকল্পনীয় কাজ করতে বাধ্য হয়। নিজের প্রিয় মানুষটির ক্ষতি...

Read More

সিজোফ্রেনিয়া

Author Admin

সিজোফ্রেনিয়া (ইংরেজি: Schizophrenia) একটি মানসিক ব্যাধি; এ রোগের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এতে চিন্তাধারা এবং অনুভূতির প্রকাশের মধ্যে সঙ্গতি থাকে না৷এর লক্ষণগুলো হলো উদ্ভট চিন্তা, বিভ্রান্তিকর বা অলীক কিছু দেখা, অসঙ্গতিপূর্ণ কথাবার্তা এবং অন্যরা যা শুনতে পায় না এমন কিছু শোনা। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি সামাজিক বা কর্মক্ষেত্রে সচারচর অক্ষমতাজনিত অসুবিধার সম্মুখীন হন৷ সিজোফ্রেনিয়ার লক্ষণগুলি সাধারণত বয়ঃপ্রাপ্তির সময় দেখা দেয় এবং দীর্ঘ দিন স্থায়ী হয়৷
বংশগতি, শৈশবের পরিবেশ, নিউরোবায়োলজি এবং মানসিক ও সামাজিক প্রক্রিয়াসমূহ এ রোগের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসাবে প্রতিভাত হয়৷ কিছু উত্তেজক মাদক এবং ওষুধ এ রোগের উপসর্গগুলোর আবির্ভাব বা এদের আরও গভীর করে বলে প্রতিয়মান হয়৷ বর্তমানে এ রোগের গবেষণায় নিউরোবায়োলজির ওপর জোর দেয়া হচ্ছে, যদিও এখনো কোন একক জৈব কারণ শনাক্ত করা যায়নি৷ 
সারাবিশ্বের ০.৩–০.৭% মানুষ এ রোগে আক্রান্ত৷ ২০১৩ সালে আনুমানিক ২৩.৬ মিলিয়ন চিকিৎসাপ্রার্থী ছিল। আক্রান্ত ব্যক্তির আচরণ পর্যবেক্ষণ ও অতীত কর্মকান্ড পর্যালোচনার মাধ্যমে এই রোগ নির্ণয...

Read More

অবসেসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার

Author Admin

অনেকেই স্বভাবগতভাবে খুঁতখুঁতে প্রকৃতির। খাবার আগে থালাটা একবার পরিস্কার করে সন্তুষ্ট হন না অনেকে, দরজায় তালা লাগিয়ে বার দুয়েক টেনে নিশ্চিত হয়ে নিতে হয়, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে অন্যদের চেয়ে কিছুটা বেশী সতর্ক থাকেন। এসব ব্যক্তি চরিত্রের বৈশিষ্ট্য। তবে, এ ধরণের ব্যাপারগুলো যখন মাত্রাতিরিক্ত হয়ে পড়ে, অনেকক্ষণ সময় নষ্ট করে, দৈনন্দিন কাজ-কর্মে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে তবে সেটি রোগের পর্যায়ে চলে গিয়েছে কি না তা পর্যালোচনার প্রয়োজন পড়ে। যে রোগটির কথা বলা হচ্ছে চিকিৎসা পরিভাষায় তাকে ‘অবসেসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার’ বা সংক্ষেপে ওসিডি বলা হয়।

অবসেশন হল এমন ধরনের চিন্তা বা দৃশ্য কল্পনা যা মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মাথায় আসে। কমপালশন হল অবসেশন দ্বারা বাধ্য হয়ে, অস্বস্তি ও উদ্বেগ কমানোর জন্য যে কাজ করা হয়। এই সমস্যায় আক্রান্ত মানুষ অবসেশন (অনর্থক চিন্তার পুনরাবৃত্তি) এবং কম্পালসনের (সেই চিন্তা অনুযায়ী কাজ করার অদম্য ইচ্ছা) এক চক্রের মধ্যে আটকে পড়েন। যার ফলে এই রোগের কিছু কিছু বিরক্তির এবং কষ্টকর উপসর্গের কথা রোগীদের কাছে শোনা যায়। যেমন, কারো কারো বাইরে বের হলে বাসায় এসে গোসল করতেই...

Read More

Future strategies to combat the hidden burden of suicide among farmers in South East Asia

Author Tanjir Rashid Soron

https://pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/30939394/

Read More

Self-Esteem

Author Admin

Self-esteem কথাটির অর্থ খুজতে গেলে বাংলা শাব্দিক অর্থ হিসেবে যা যা পাওয়া যায় তা হলো - “আত্মসম্মানবোধ”, “আত্মমর্যাদা”, “আত্মবিশ্বাস” অথবা এই ধরনেরই কিছু। তবে সেলফ–এস্টিম কথাটির অর্থ এককথায় এভাবে বলা যায় না। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, সেলফ-এস্টিম হলো একটি মানুষের তার নিজের সম্পর্কে সার্বিক ধারণা অথবা বিচার-বিবেচনা। নিজের সম্পর্কে এই সার্বিক ধারনাটিই জীবনে চলার পথে আমাদের প্রতিটি কাজকে প্রভাবিত করে থাকে যা হয়তো আমরা টেরই পাইনা।

আসুন বিশেষজ্ঞদের দেওয়া কিছু সংজ্ঞা যেনে নেই – 

Self-esteem refers to a person’s overall sense of his or her value or worth. It can be considered a sort of measure of how much a person “values, approves of, appreciates, prizes, or likes him or herself” (Adler &am...

Read More